Sunday, 11 February 2024

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস



জীবন দিয়ে ভালবাসার প্রমাণ


আজ ১৩ই ফেব্রুয়ারি।আগামীকাল "বিশ্ব ভালোবাসা দিবস"...সব প্রেমিক-প্রেমিকাদের কত প্ল্যান এই দিনটা নিয়ে। সাদিয়া আর রাফি প্ল্যান করে আগামীকাল সারাদিন একসাথে ঘুরবে। তাই ক্যাম্পাসে বেশিক্ষণ না থেকে বাড়ি চলে আসে ওরা....

.

রাত ১২.০০টা।একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে মেসেজ আসে সাদিয়ার ফোনে।মেসেজে লেখা"দরজাটা খোল"!

সাদিয়া ভাবে হয়তো ভুল করে তার নাম্বারে মেসেজটা চলে এসেছে।কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরেকটা মেসেজ আসলো! তাতে লেখা"ভয় পাসনা,দরজাটা খোল!"..এবার সাদিয়া কিছুটা বিরক্তি নিয়ে দরজা খুললো। দরজা খুলে সাদিয়া দেখলো দরজার সামনে একটা কাগজের টুকরা পড়ে আছে। সাদিয়া এবার কিছুটা এক্সাইটেড হয়ে কাগজের টুকরাটা হাতে নিল যেখানে লেখা"একবার ছাদে আসতে পারবি?"...সাদিয়া কি মনে করে যেন ছাদের দিকে আগাতে থাকে। ছাদে পৌঁছে সাদিয়া তো পুরা থ হয়ে গেছে!!.সে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছেনা!

ছাদের উপর হাজার হাজার কাগজের খামে লেখা "ভালোবাসি"....

অচেনা নাম্বার থেকে আরেকটা মেসেজ এসেছে"ভালোবাসি, ভালোবাসি এবং ভালোবাসি!"...

এভাবে কেউ সারপ্রাইজ দেবে সাদিয়া কখনোই ভাবেনি।সাদিয়া মনে মনে ভাবছে রাফি ছেলেটা আসলেই একটা পাগল নাহলে এভাবে কেউ পাগলামী করে!!..

.

১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০.০০টা।

.

--হ্যালো!আপনি কি সাদিয়া বলছেন??(ফোনের ওপাশ থেকে)

--হ্যাঁ বলছি..(সাদিয়া)

--আসলে................

--কিইইইহহহ...........

.

সাদিয়া এখন হসপিটালে বসে আছে।ফোনটা হসপিটাল থেকেই এসেছিল।রাফির বাইক এক্সিডেন্ট হয়েছে!!

সাদিয়ার সাথে দেখা করতেই আসছিল রাফি।ভালোবাসা দিবসের জন্য কত প্ল্যান ছিল দুজনার অথচ সবকিছুই শেষ হয়ে গেল।

রাফির অবস্থা খুবই খারাপ।রাফির বাবা-মা ও বন্ধুরা সবাই চলে এসেছে।সবার চোখেই জল।ডাক্তার বলেছে বাঁচানো কঠিন। প্রচুর পরিমাণে ব্লিডিং হচ্ছে, মাথা এবং উদরের পেছনের অংশে যেখানে কিডনি থাকে সেই জায়গাটাতে মারাত্মক আঘাত লেগেছে।

.

--ডাক্তার সাহেব এখন রোগীর কি অবস্থা? (রাফির বাবা)

--দেখুন রোগীর আঘাতটা খুবই গুরুতর।রিপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।(ডাক্তার)

--আমার ছেলে ঠিক হয়ে যাবে তো?(কান্নাজড়িত কণ্ঠে)

--প্লিজ কাঁদবেননা।আল্লাহকে ডাকুন আর আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি হবেনা।

.

রিপোর্ট চলে এসেছে।রাফির দুই চোখ এবং দুইটা কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে।যদিও এক্সিডেন্টে দুই কিডনিই নষ্ট হওয়া খুবই রেয়ার ঘটনা। রাফির ভাগ্যটা হয়তো খারাপ ছিল!!

.

লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে রাফিকে। ডাক্তার বলেছে ২ ঘন্টার মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে নাহলে রাফিকে বাঁচানো যাবেনা।সবাই যার যার মত চেষ্টা করছে কিন্তু কিডনি পাওয়া তো এত সহজ না।আর কিডনি পেলেই শুধু হবেনা রক্তের গ্রুপও মিলতে হবে!!

.

রাফির মা কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন,সাদিয়াও প্রায় পাগল হয়ে গেছে।ভালোবাসার মানুষটাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টাটুকু করছে।

দিনা,তুর্য,হাফসা সবাই পাগলের মত কিডনির খোঁজ করছে কিন্তু কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা।

.

--সবার জন্য একটা খুশির খবর আছে।কিডনি পাওয়া গেছে! সাথে চোখও!(ডাক্তার)

--আলহামদুলিল্লাহ্(সবাই একসাথে)

--আপনাদের ভাগ্য সত্যিই অনেক ভালো নাহলে এত কম সময়ে কিডনি ও চোখ পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার।বাংলা সিনেমায় এরকম কাহিনী ঘটে কিন্তু বাস্তবে এই প্রথম দেখলাম!

--ডাক্তার সাহেব কে সেই মহান ব্যক্তি?আমরা কি তাকে দেখতে পারবো একবার?(রাফির মা)

--না,উনি কাউকে দেখা দেবেননা।এখন।অপারেশন শুরু হবে সবাই দোয়া করুন যাতে সফলভাবে অপারেশন শেষ হয়।

.

হ্যাঁ,জীবনতো এরকমই হয়!কখনো কখনো জীবন সিনেমার চাইতেও বেশি সিনেমাটিক হয়ে যায়।নাহলে এত কম সময়ে কিডনি পাওয়া কখনোই সম্ভব হতোনা।

রাফির অপারেশন সফলভাবেই শেষ হয়।সাদিয়ার ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি।ভাগ্যদেবীর সহায়তায় রাফি বেঁচে গেছে!

.

প্রায় ১০ দিন পর আজকে ভার্সিটিতে এসেছে সাদিয়া,তুর্য,দিনা এবং হাফসা।রাফি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।কিন্তু মাহিনের কোন খবরই নেই।রাফিকে দেখতে হাসপাতালে পর্যন্ত আসেনি। সাদিয়াও রাগে আর ফোন দেয়নি।

.

ক্লাস শেষে আড্ডা দিচ্ছে সবাই।অনেকদিন আড্ডা দেওয়া হয়না। হঠাৎ একটা ছেলে আসলো ওদের কাছে।হাতে একটা ডাইরি।

--আপনাদের মধ্যে সাদিয়া আপু কে??(ছেলেটা)

--আমিই সাদিয়া,

--ও..এইটা আপনার জন্য।মাহিন ভাই দিতে বলেছে।

.

আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে যায় ছেলেটা।

মাহিনের নাম শুনে কিছুটা অবাক হয় সাদিয়া।আবার কিছুটা রাগও হয়।ভাবে এতদিন খোঁজ না নিয়ে এখন ডাইরি পাঠিয়ে ভাব মারছে।অকৃতজ্ঞ কোথাকার!

ডাইরিটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করে সাদিয়া।আর বাকীরা নিশ্চুপ শ্রোতার মত শুনতে থাকে।ডাইরীর প্রথমে বড় করে একটা শিরোনাম আছে"কাগজে মোড়ানো ভালোবাসা".....

.

@আজ ভার্সিটির ১ম দিন।স্যারের অদ্ভুতুড়ে পরিচয় পর্বটা ভালোই লাগলো।মজার ব্যাপার হল "স" দিয়ে একটা মেয়ের নাম আছে"সাদিয়া"।মজার ব্যাপার বলছি কারন "স" অক্ষরটা আমার খুব প্রিয়।মেয়েটাকে আড়চোখে একবার দেখলাম! কত্ত কিউট!তাই ভাবলাম একটু রাগিয়ে দেই।প্রথম পরিচয়ে তুই করে বলাতে মেয়েটা যা ঘাবড়ে গেছে হাহাহা।এরপর যখন পেত্নী বললাম মেয়েটার সেকি রাগ!!

.

@মেয়েটা আমাকে দেখলেই এত রাগ করে কেন??..বন্ধুর সাথে কেউ এমন ব্যবহার করে?ভুলে নাহয় একবার পেত্নী বলেই ফেলেছি!

.

@তুর্য,দিনা,হাফসা আর রাফি সবার সাথেই আজকে বন্ধুত্ব করে ফেললাম শুধু সাদিয়ার সাথেই বন্ধুত্বটা হলোনা।

.

@আজকে সাদিয়াকে রিকশা করে বাড়িতে পৌঁছে দিলাম যদিও আমার বাড়ি ওই রাস্তায় না।বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য এইটুকু তো করাই যায়!

.

@আমি আজকে অনেক খুশি কারণ সাদিয়া আজ আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করেছে।

ডাইরির পাতা ওল্টাতে থাকে সাদিয়া....হঠাৎ একটা লেখায় চোখ আটকে যায়!

.

@কালকে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা আর পেত্নীটার টাইফয়েড হয়েছে।সবাই সান্ত্বনা দিতে ব্যস্ত আর আমি আমার প্ল্যান নিয়ে!যে করেই হোক পরীক্ষাটা আটকাতেই হবে।

.

@উফফ! যা ধকল গেছে গতরাতে..প্রাচীর টপকে পরীক্ষার জিনিসপত্রে আগুন দেওয়া তো আর চারটেখানি কথা না!তারপরেও ভালো লাগছে এইটা ভেবে যে পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে!সাদিয়ার বছরটা আর লস দেওয়া লাগবেনা।

.

আরও কয়েকটা পেইজ পড়ে সাদিয়া আর অন্যরা অবাক হয়ে শুনে যাচ্ছে।এবার একটু বেশিই অবাক হয় সাদিয়া!

.

@আমি মনে হয় সাদিয়াকে ভালোবেসে ফেলেছি!..কিন্তু কথাটা ওকে বলবো কিভাবে?

.

@কাল যেভাবেই হোক সাদিয়াকে বলতেই হবে।ভালোবাসার কথা বলে দিতে হয়...

.

@সাদিয়াকে প্রোপোজটা আর করা হলোনা।রাফিও নাকি সাদিয়াকে ভালোবাসে!আরে ব্যাপার না রাফি তো আমারই বন্ধু!সাদিয়ার সাথে ভালোই লাগবে ওকে।আমি নাহয় দূর থেকেই ভালোবাসবো!

.

@মামাটা আজকে মারা গেল!আচ্ছা হার্ট অ্যাটাক হলেই কি মরতে হবে??সবাই এত স্বার্থপর কেন?আমি যে বড় একা হয়ে গেলাম।

.

@৫ দিন পর ভার্সিটি আসলাম।কিন্তু ক্লাস করিনি।বৃষ্টির মধ্যে সাদিয়াকে দেখলাম ছাতা ছাড়া হাঁটতে!ছাতা নিয়েই দৌড় দিলাম।ভালোবাসার মানুষটাকে ভিজতে দেই কিকরে?যদি অসুখ হয়ে যায়!!

.

@সবার থেকেই নিজেকে গুটিয়ে ফেলছি এখন...যখন মায়া বাড়িয়ে লাভ হয়না তখন মায়া কাটাতে শিখতে হয়।

.

সাদিয়া যতই পড়ছে ততই অবাক হচ্ছে।অবাক হচ্ছে বাকী সবাই!! আর মাহিন এখন কোথায়??

.

@আজকে মনটা খুব খারাপ।সাদিয়ার এক্সিডেন্ট হইছে।ওকে হসপিটালে ভর্তি করেই রাফিকে ফোন দিলাম যাতে সাদিয়া ভাবে রাফি সাদিয়াকে হসপিটালে নিয়ে এসেছে!

.

@রাফি আর সাদিয়ার ভালোবাসাটা হয়েই গেল অবশেষে।আমি অনেক খুশি।

.

একটু দম নিয়ে আবার পেইজ ওল্টায় সাদিয়া....

.

একটা প্রশ্নের উত্তর দিবি??.. তুই কি কখনো, কোনদিন আমার মন বুঝিসনি???উত্তরটা তোর কাছেই রেখে দিস...যদিও উত্তরটা তুই দিতে পারবিনা!হৃদয় দিয়ে লেখা প্রশ্নের উত্তর হৃদয় দিয়েই দিতে হয়,,বুদ্ধি দিয়ে নয়।

.

সত্যিকারের ভালোবাসাগুলো মন দিয়ে হয় কিন্তু প্রমাণ করতে হয় জীবন দিয়ে।ভালোবাসলে ভালোবাসার মানুষকে জানিয়ে দিতে হয় আর আমি বোধহয় এ জায়গাটাতেই ব্যর্থ ছিলাম...

আমার ভালোবাসা ছিল একটা কাগজে মোড়ানো ভালোবাসা,,যার অস্তিত্ব শুধু কাগজের কয়েকটা পাতাতেই সীমাবদ্ধ।

.

কাগজে মোড়ানো ভালোবাসা দিয়ে আমি তোর হৃদয় মোড়াতে চেয়েছিলাম।কিন্তু তুই অধরাই থেকে গেলি...

.

তুইতো আমার হাতছোঁয়া দূরত্বে ছিলি কিন্তু হাত বাড়ালেই সবসময় ভালোবাসা ছোঁয়া যায়না। কিছু ভালোবাসা অপূর্ণই রয়ে যায়..

ভালোবাসার মানুষকে পেয়েও হারানোর নাম বেদনা,,না পেয়ে ভুলে যাওয়ার নাম সান্ত্বনা আর ভালোবাসার মানুষকে না পেয়েও সারা জীবন ভালোবেসে যাওয়ার নাম স্বার্থকতা।

আমি স্বার্থক....

.

আমি তোর মাঝে আমার জগৎটাকে খুঁজেছিলাম আর তুই রাফির মাঝে এতে তো আমাদের কোন হাত ছিলনা..কিছু গল্প বিধাতা নিজ হাতে লেখে!!.. নিজেকে কখনো অপরাধী ভাবিসনা কিন্তু... রাফিকে কখনো কষ্ট দিসনা...ছেলেটা তোকে অনেক ভালোবাসে...

.

এতগুলো অপূর্ণতার মাঝেও আমার একটা পূর্ণতা আছে আর তা হল রাফির দেওয়া যে গল্পগুলো তোকে আবেগে ভাসাতো সেগুলো আমারই লেখা ছিল...এজন্য রাফিকে কিছু বলিসনা কিন্তু.. সবার দ্বারা গল্প লেখা হয়না!.. গল্প লিখতে গেলে আমার মতই পাগল হওয়া লাগে...

গল্প লিখতে হয় আবেগ দিয়ে..কারণ আবেগ দিয়ে জীবন না চললেও হৃদয় চলে!

.

তোকে বলেছিলামনা আমার লেখা পড়েও একদিন তুই কাঁদবি!আমার অব্যক্ত ভালোবাসার কসম করে বলছি তুই এখন কাঁদছিস...এই পাগলী! একদম কাঁদবিনা,আমি আছি তো।আমি তোর ছায়া হয়ে তোর সাথেই আছি শুধু স্পর্শের বাইরে।নিজের জীবনটা রাঙিয়ে নিস ভালোবাসার রঙে...

আমার শেষ একটা আবদার রাখবি সাদিয়া??..প্রতি ১৪ই ফেব্রুয়ারি আমার কবরে একটা করে গোলাপ ফুল রেখে আসবি??..আমার ভালোলাগবে।

.

""ছায়া হয়েও হৃদয়চোখে,,

ভালোবাসা তোকে খুঁজে নেবো!

থাকিস শুধু মন গহীনে,

তোর পাজর ছুঁয়ে নিঃশ্বাস হয়ে যাবো।। ""

.

ভালোবাসা ভালো থাকিস সবসময়,,চিরবিদায়।।

.------

মাহিনের লেখাটা আজকে সত্যিই কাঁদাতে পেরেছে সাদিয়াকে। শুধু জেনি নয় দিনা,তুর্য,হাফসা সবাই কাঁদছে।কতটা পাগল হলে এরকম পাগলের মত ভালোবাসা যায়??প্রশ্নটা সাদিয়ার মনের ভেতর বেজেই চলেছে।কিন্তু উত্তর দেওয়ার মানুষটা যে আর নেই।যেই পাগলটার পাগলামী পুরো বন্ধুমহল মাতিয়ে রাখতো তাকে ছাড়া ক্যাম্পাসটা যে ফাঁকা ফাঁকা লাগবে!!..তবে জীবন হয়তো চলেই যাবে কোন না কোনভাবে।

.

.

একবছর পর আজ আবারো ১৪ই ফেব্রুয়ারি। প্রত্যেক প্রেমিক-প্রেমিকার মত রাফি আর সাদিয়াও এক জায়গায় যাচ্ছে। সাদিয়ার হাতে একটা গোলাপ ফুল।

.

গন্তব্যে চলে এসেছে ওরা।হ্যাঁ, ওইতো!মাহিনের কবরটা দেখা যাচ্ছে।এক বছরের ব্যবধানে অনেকটা বদলে গেছে জায়গাটা।চারপাশের লতাপাতাগুলো যেন তাদের বুকের মাঝে আগলে রেখেছে পাগলটাকে।

.

সাদিয়া আস্তে করে ফুলটা রাখলো কবরের উপর।চোখের জলগুলোও আজকে বেইমানী করছেনা অঝোরে ঝরে পড়ছে।কাঁদছে রাফিও....

.

কবর থেকে বাসার উদ্দেশ্য হাঁটছে ওরা দুজন।না, দুজন বললে ভুল হবে!আরেকজন আছে ওদের সাথে তবে ছায়া হয়ে।

পথটা হয়তো বেঁকে যাবে কিন্তু ছায়াটা রয়েই যাবে আর চিৎকার করে বলবে "ভালোবাসিরে"!!

চিৎকারটা কেউ শুনবেনা ঠিকই কিন্তু সেটা প্রতিধ্বনিত হবে সেই ভালোবাসার মানুষটার হৃদয়ে যার নামে সে নিজের জীবনটাকেই লিখে দিয়েছে...!

.

উৎসর্গ:মাহিনের মত পাগলদের যারা নিজের জীবন দিয়ে ভালবাসার প্রমাণ রেখে যায়।।।।

না বলা ভালোবাসা

           না বলা ভালোবাসা



পর্ব-১


:মা আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা। কমপক্ষে  এইচএসসি পরিক্ষা দিয়ে বিয়ে করি মা?


: আমি জানি তুই আরো পড়তে চাস। কিন্তু মা তোর বাবার শরীরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আজ আছে তো কাল নেই। আর তেমন ভালো কোন সমন্ধও আসছে না। তাই আর না করিস না মা


: ঠিক আছে আমি বিয়ে করবো। কিন্তু মা আমার আলেম ছেলেকে বিয়ে করার খুব ইচ্ছে ছিল। একটা আলেম ছেলের সাথে বিয়ে দিলে হয় না?


: খোঁজতো আর কম করা হলো না। যেই শোনে তুই কালো সেই বিয়েতে না করে দেয়। বল তিসা আমি কি করবো? তুই না করিস না এই বিয়েতে ( কাদঁতে কাদঁতে)


: ঠিক আছে মা। কিন্তু এই ছেলে এত বড় লোক। সে কি আমার মত কালো মেয়েকে বিয়ে করবে?


: ছেলে তার বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করবে আর ছেলের বাবা মায়ের তোকে পছন্দ হয়েছে।


: মা আর একবার একটু চেষ্টা করা যাবে না? আমি খুব ইচ্ছে একজন আলেমকে বিয়ে করার


: তোর বাবা আর কোন ছেলে দেখতে চাইছে না। এই ছেলেকেই পছন্দ করেছে। আচ্ছা তুই একটু সময় নিয়ে ভেবে দেখ। জোড় করে চাপিয়ে দিবো না।


এত সময় যেই মেয়ের বিয়ের কথা চলতে ছিল তার নাম তিসা। এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। কলেজে পড়লেও দ্বীনদার মেয়ে। কলেজে কখনো বেপর্দা হয়ে যায় নি। নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে। ওর বাবা হার্টের রুগী। এর আগে একবার ব্রেন স্টোর্ক করেছিল। তিসার বড় ২ টা বোন আছে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তিসার অনেক ভালো জায়গা থেকে বিয়ে আসে কিন্তু ও কালো এজন্য কেউ বিয়ে করতে চাইনা। কালো হলেও তিসার চেহারা অনেক মায়াবী। বড় পাপড়ি বিশিষ্ট টানাটানা চোঁখ, ঘন কালো লম্বা লম্বা চুল তার চেহারাকে আরো আকর্ষণীয় করেছে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের চাহিদা ফর্সা মেয়েদের প্রতি। তাই তিসাকে প্রথম দেখাতে কেউ পছন্দ করেনা। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা) বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। এজন্য তিসা একজন দ্বীনদার আলেমের জীবণসঙ্গীনি হতে চায়। 


: মুরাদ


: জ্বি আব্বু


: তোমার আর তিসার বিয়ের কথা চলছে এটা কি জানো?


: আব্বু জানি কিন্তু আমার ইচ্ছে কওমি মাদ্রাসার মেয়েকে বিয়ে করার। আর একটু উজ্জ্বল বর্ণ হলেই হবে। কিন্তু তিসা কলেজে পড়ে আর তোমরাই বললে যে তিসা দেখতে কালো। আমার এই বিয়েতে মত নেই।


: তিসা কলেজে পড়লেও অনেক দ্বীনদার পরহেজগার মেয়ে। আর কালো হওয়া তো কোন দোষের নয়।


: তাও আব্বু আমার তো কোন কিছুর অভাব নেই। আমি একটা নেককার পরহেজগার মেয়ে চাই। কিন্তু তিসাতো কালো এইটা আমি মেনে নিতে পারছিনা।


: মুরাদ তুমি কোরআন হাদিস পড়ো কিন্তু এই বিষয়ে এমন করছো কেন?


তুমি জান না হাদিসে বিয়ের জন্য মেয়ে নির্বাচনের জন্য দ্বীনদারিতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আর রূপ ক্ষণস্থায়ী তাই এইটাকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। আমি চাই তুমি এই মেয়েকেই বিয়ে করো।


: ঠিক আছে তোমাদের কথায় মেনে নিলাম। একটু কালো হলে সমস্যা নেই।


এত সময় মুরাদ আর ওর আব্বুর কথা চলছিলো। মুরাদের বাবার বিরাট বড় বিজনেস। মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে। কোন কিছুর অভাব নেই মুরাদের। বিরাট বড় আলিশান বাড়ি। আর মুরাদএর  চেহারা দেখলে যে কেউ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। এত দিন বিজনেসের উপর পড়াশোনা করতে ছিলো। কিছু দিন আগে শেষ হয়েছে। মুরাদ কলেজে পড়াশোনা করলেও নামাজ, রোজা, আলেমদের সাথে উঠা বসা করে। তাই হয়তো ওর কওমি মাদ্রাসার মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিলো। আর মুরাদ দেখতেও সুদর্শন পুরুষ, এজন্য একটা ফর্সা মেয়ে বিয়ে করতে চেয়েছে। কিন্তু বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করার ইচ্ছে থাকায় তিসার সাথে বিয়ের মত দিলো।




ফজরের আজান হচ্ছে। সাইমা ঘুম থেকে উঠে পড়লো। অজু করে সালাত আদায় করলো তারপর কোরআন তেলাওয়াত করতে বসলো। পড়তে শুরু করলো সূরা নিসা। প্রথম আয়াতেই পড়লো


"হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।"


সাইমা রাফির সাথে বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে। ২ দিন পরে ইসলামিক আইন অনুযায়ী ঘরোয়া ভাবে বিয়ে হবে। ওর ২টা বোন চলে এসেছে। সাইমা শুধু ওর বেস্ট ফ্রেন্ড রাইসাকে বিয়ের কথা জানিয়েছে। হঠাৎ করে বিয়ে ঠিক হওয়ায় কাউকে জানাতে পারিনি।


আজকে বিয়ের দিন। সকাল থেকেই বাড়িতে দাওয়াত করা মেহমান আসতে শুরু করেছে। মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ার খুব বেশি আয়োজন করতে পারিনি।


রাফির বাড়িতে বিয়ের ধুম ধাম আয়োজন চলছে। তবে সেটা ইসলামিক নিয়মের মধ্যেই আছে। বিয়েতে অপচয় আর ইসলাম পরিপন্থি কোন কাজ না হয় এ দিকে রাফির বাবা লক্ষ্য রেখেছেন।






সাইমার খালাতো বোনরা খুব একটা ধার্মিক না। বিয়েতে এমন আনুষ্ঠানিকতা তাদের পছন্দ হয়নি। ওরা চেয়েছিল আতশবাজি- পটকা ফোটাতে কিন্তু এই গুলো করা বেদআত তাই ওদের কেউ করতে দেয় নি।




সাইমাকে ওর বড় ২ বোন গোসল করাতে নিয়ে গেলো। এখানেও সাইমার খালাতো বোন মারুফার আপত্তি।


: আপু সাইমাকে গাঁয়ে হলুদ দিলে না?(মারুফা)


: কেন? এসবের কি দরকার আছে?(সাইমার বোন)


: এই গুলো না করলে কি আর বিয়ের মজা আসে? এখনকার প্রতিটা বিয়েতেই এসব অনুষ্ঠান করা হয়। আর আপনারা তো আরো অন্য কিছুও করতে দিলেন না


: কি কি করতে চাও তোমরা??


: এইযে গাঁয়ে হলুদের অনুষ্ঠান, সারা বাড়ি লাইটিং, মিউজিক, জামাই যখন আসবে তখন গেটে টাকা ধরবো, তার হাত ধুয়ে দিবো আরো কত্ত কিছু করা যায়। কিন্তু আপনারা এই গুলো করতে আগেই নিষেধ করে দিলেন।


: শোন মারুফা! ইসলামে এই গুলো করার কথা বলা হয়নি। এই গুলো বিয়ের জন্য বেদআত। আর এসব খরচ করে কোন লাভ নেই। বিয়ে সল্প খরচে করার কথা এসেছে। আর এই কাজ গুলোতে গোনাজ ছাড়া কোন সাওয়াব হবে না।


: আপনাদের সাথে কথা বলে পারবোনা। যা ভালো হয় করেন






সাইমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে সাইমার বোন। এর মধ্যে সাইমার বেস্ট ফ্রেন্ড রাইসা চলে এসেছে। হাতে অনেক গুলো বই। আর ১টা নীল ডায়েরি। 


সাইমা: কিরে এত দেরী করলি কেন?


রাইসা: ইসস একটু দেরী হয়ে গেলো। প্লিজ কিছু মনে করিস না। 


সাইমা: এত্ত গুলো বই!


রাইসা: হুম তোর জন্য নিয়ে আসলাম। এই বই গুলো অনেক ভালো দাম্পত্য জীবন সুখী করার জন্য ইসলামিক ভাবে অনেক সুন্দর সুন্দর টিপস দেয়া। 


সাইমা: বাহ খুব খুশি হলাম


রাইসা: আমি তো জানি আমার ফ্রেন্ড বই পড়তে খুব ভালোবাসে। আর শোন এই যে এই নীল ডায়েরী, শুধু তোর জন্য। ডায়েরী লিখতে ভালোবাসিস তাই অনেক খুজেঁ কিনলাম।


সাইমা: মাশা আল্লাহ। এর আগের গোলাপী ডায়েরীর থেকেও এটা বেশি সুন্দর।


রাইসা: এই ডায়েরীতে আজ থেকে লিখা শুরু করবি। বিয়ের পর লিখার জন্য এইটা দিলাম। অন্য গুলোতে লিখলেও এই ডায়েরীতে শুধু বিয়ের পরের দাম্পত্য জীবনের কথা গুলো লিখবি। এটা আমার আবদার


সাইমা: ঠিম আছে।






কিছু সময় পরেই বর যাত্রী চলে আসলো। অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এবার পিতার বাড়ি থেকে বিদায় নেয়ার পালা। সাইমাকে কালো বোরকা আর হিজাব পড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রাইসা ওর হাত ধরে রুম থেকে বের করে নিয়ে গেলো। 


বাইরে যেয়ে সাইমা রাফিকে চিনতে পারেনি। এর আগে রাফিকে কোন দিন দেখেনি। রাইসা রাফিকে চিনিয়ে দিলো। সাইমা তো রাফিকে দেখে আকাশ দেখে পড়ল। মাশা আল্লাহ। এত সুন্দর ছেলে। তাও আবার জুব্বা পড়েছে সাথে পাগড়ীও আছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি তো এমনই একজন চেয়েছিলাম। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া।  কলেজে পড়া ছেলে হলেও সুন্নতি লেবাস। 




রাফিরকে প্রথম দেখেই সাইমার ভালো লেগে গিয়েছে। কিন্তু তার মনে অনেক প্রশ্ন  রাফি কি তার মতো কালো মেয়েকে মেনে নিবে?






বিদায় পর্ব শেষে সাইমাকে নিয়ে চলে আসা হলো। রাফির নিজের একটা প্রাইভেট কার আছে। সেই কারেই বিয়ে হলো। অনেক সুন্দর করে সাজানো ছিল যেমনটা সাইমা চাইতো। গোলাপ আর গাঁদা ফুল দিয়ে কার সাজানো। না চাইতেই এত কিছু পেয়ে সাইমা আল্লাহর কাছে বার বার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছে। কিন্তু রাফির হয়তো সাইমার প্রতি কোন আগ্রহ নেই। এই পর্যন্ত একটা বারও সাইমার দিকে তাঁকিয়েও দেখিনি। এই সব ভাবতে ভাবতে সাইমা একসময় বিরাট একটা বাড়ির সামনে চলে আসলো। দেখতে যেন রাজপ্রাসাদ। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এত বড় বাড়িতে তার বিয়ে হয়েছে সে ভাবতেও পারছেনা।


 (বিদ্রঃঃ তিসার নাম অধরা রাখা হইছে।) 




পর্ব-২


মাগরিবের নামাজের পর বাসর ঘরে অধরাকে নিয়ে মুরাদের চাচাতো বোনরা আর ভাবিরা বসে আছে। অনেক সুন্দর করে বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। গোলাপ আর গাঁদা ফুলে সব কিছু ঢেকে গেছে। এমনিতেও মুরাদের রুম বিলাশ বহুল। বিছানার পাশে একটা টেবিল রাখা আছে। সেখানেও ফুলের তোড়া রাখা। রুমের একটা দেয়ালে অনেক সুন্দর বইয়ের তাক আছে। ইসলামিক বই, গল্পের বই, উপন্যাস আরো হরেক রকমের বইয়ের সমাহার সেখানে। দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। দীর্ঘ সময় ধরে অধরা এসব দেখতে ছিলো।


বিকাল থেকে অনেক প্রতিবেশী এসেছিলো নতুন বউ দেখতে। কেউই অধরাকে পছন্দ করেনি। কারণ তার গায়ের রঙ। অনেকেই মুরাদকে বলেছে তোমার মতো সুন্দর ছেলের সাথে এমন মেয়ে মানায় না। এসব শুনে মুরাদের অনেক খারাপ লেগেছে। কাউকেই কিছু বলেনি।


এশার নামাজের পর অধরাকে অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে মুরাদের ভাবীরা। মুরাদের ভাবীদের প্রথমে অধরাকে পছন্দ না হলেও অধরার কথা বার্তা, আচার-আচরণে ভালো লেগে গেছে। 


_____________________________________________


রাত ১০টা বেজে গেছে। এখনো মুরাদ আসছেনা কেন? কি হলো কি জানি একা একা এভাবে থাকতে আর ভালো লাগছে না। বিছানায় বসে এসব ভাবছি আর হঠাৎ দরজায় টোকা লাগার শব্দ হলো।


মুরাদ: আসসালামু আলাইকুম। আসতে পারি?


অধরা: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। জ্বি অবশ্যই। ভিতরে আসেন।


মনের সব সংকোচ কাটিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম। অধরা বিছানায় বসে আছে। চারিদিকে ফুল তার মাঝে লাল শাড়ি পড়ে একটা মেয়ে বসে আছে। এত দিন এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই দিন চলে আসলো। কিন্তু আগের মতো সেই ফিলিংস কাজ করছে না। রুমের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে গেলাম। এর আগে কোন মেয়ের কাছে যায় নি। আজকে যাবো তাও আবার মনের বিরুদ্ধে যেয়ে। সবাই যেভাবে অধরার চেহারার দূর্ণাম করলো না জানি ও দেখতে কেমন। এই ভেবে বিছানায় বসে পড়লাম। ২জন অনেক সময় চুপচাপ বসে আছি। অনেক সংকোচ কাটিয়ে ওর সাথে কথা শুরু করলাম।


মুরাদ: রাতে খেতে কোন সমস্যা হয়নি তো?


অধরা: না কোন সমস্যা হয় নি।


মুরাদ: বাবা- মায়ের সাথে কথা বলেছো এখানে এসে?


অধরা: জ্বি বলেছি। আম্মুর মোবাইল থেকে কথা হয়েছে।


মুরাদ: আমি কি তোমার মুখ দেখতে পারি?


অধরা: এখন থেকে আমার উপর আপনার সম্পূর্ন অধিকার আছে। আপনি অবশ্যই দেখতে পারেন।


মুখের উপর থেকে ওড়নাটা সরিয়ে দিলাম। অধরা খুব লজ্জা পেয়েছে। ও দেখতে সত্যি অনেক কালো। এত কালো মেয়ে আমি বিয়ে করলাম? এসব ভেবে মন খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু ওর চেহারায় একটা মায়া আছে। 


মুরাদ: আচ্ছা চলো আমরা ২ রাকাত নামাজ পড়ি।


অধরা: আমার ওজু আছে।


মুরাদ: আচ্ছা তাহলে আসো


নামাজ শেষ করে অধরাকে রুমে থাকতে বলে বাইরে চলে আসলাম। অজানা একটা অবহেলা কাজ করছে মনে। তারপরেও অধরাকে আজ রাতে কোন কিছু বলতে দিতে চাইনি। আবার রুমে গেলাম।


আলমারিটা খুলে অধরাকে আসতে বললাম।


মুরাদ: অধরা এদিকে আসো।


অধরা: জ্বি


মুরাদ: এই নাও এটা তোমার।


অধরা: এটা কি?


মুরাদ: খুলে দেখো


অধরা হাত থেকে প্যাকেট নিয়ে খুলে দেখে অনেক গুলো চুড়ি, কানের দুল আর পায়ের তোড়া।


অধরা: এত কিছু আমার জন্য? অনেক সুন্দর লাগছে এই গুলো। আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।


মুরাদ: আমি এই গুলো ১ বছর আগে কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম যাকে বিয়ে করবো তাকে দিয়ে দিবো। তাই তোমাকে দিলাম।


অধরা: আমার অনেক পছন্দ হয়েছে এই গুলো।


মুরাদ: অনেক রাত হয়েছে। আর আমি অনেক ক্লান্ত। এখন ঘুমিয়ে যাবো। তুমিও ঘুমিয়ে যাও।


অধরা: আপনি যা বলবেন তাই হবে


মনে অনেক অবহেলা কাজ করতে ছিলো তাই অধরার সাথে ভালো করে কথা না বলেই ক্লান্ত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।






বিয়ের ৭ দিন হয়ে গেছে। এই কয় দিনে মুরাদ অধরার সাথে খুব একটা ভালো করে কথা বলেনা। কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলে শুধু উত্তর দেয়। নিজে ইচ্ছে করে কোন কথায় বলে না। রাতে ঘুমানোর সময় ও অন্য দিক ঘুরে ঘুমিয়ে পরে। একবারে খাবার খেতে ডাকে না।


কিন্তু অধরার শশুড় -শাশুড়ি অধরাকে অনেক ভালো বাসছে। আগে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতো তাই অনেক কাজ অধরা পারে না। সেইগুলো অধরার শাশুড়ি সব শিখিয়ে দেয়। নিজের মেয়ে নেই তাই মেয়ের মতোই যত্ন করে। আর অধরাও নিজের মায়ের মত ভাবে। অধরাকে ওর শশুর একটা মোবাইল কিনে দিয়েছে যাতে সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।






অনেক সময় ধরে চিন্তা ভাবনা করছি। আমি কালো বলে কি মুরাদ আমার সাথে কথা বলেনা? ও তো সবার সাথেই হাসি মুখে কথা বলে। তাহলে আমার সাথে কথা বলেনা কেন? আজ আমি নিজেই সাহস করে জিজ্ঞাসা করবো। রাতে বাসায় আসুক




রাত ৯ টায় মুরাদ বাসায় আসলো। সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া শেষ করলো। এবার মুরাদ আর অধরা রুমে।


অধরা: আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। আপনি কি ব্যস্ত আছেন?


মুরাদ: না বলো।


অধরা: আমি এই কয় দিন লক্ষ্য করেছি আপনি আমাকে এড়িয়ে চলা ফেরা করেন। ঠিক মত কথাও বলেন না। আমি কি কোন ভুল কাজ করেছি যার জন্য আপনি এমন করছেন?


মুরাদ: না করো নি।


অধরা: তাহলে আমার সাথে এমন করেন কেন?


মুরাদ: জানতে চাও?


অধরা: জ্বি জানতে চাই।


মুরাদ: বাইরে অনেক সুন্দর চাঁদের আলো। চলো বারান্দায় যায়। বাইরে বসে বলি।


অধরা: আচ্ছা ঠিক আছে।


২জন বারান্দায় চলে গেলো। অধরার মনে অজানা ভয় কাজ করছে। না জানি কি বলে।




পর্ব-৩


পূর্নিমার রাত। আকাশে মিটিমিটি তারা জ্বলছে। পাশের বাগান থেকে বিভিন্ন ধরনের শব্দ ভেসে আসছে। হালকা হালকা বাতাস হচ্ছে। বিয়ের পরে জীবনসঙ্গীর সাথে সময় কাটানোর স্বপ্ন কে না দেখে? সাইমাও দেখেছিলো। আজ সেটা হলো তবুও মনেও মধ্যে অজানা কোন ভয় কাজ করছে। রাফি কিসের জন্য এমন করে। কি জানি কি বলে বসে। 


২ জনই চুপচাপ। অবশেষে রাফি নিরবতা ভেঙে কথা বললো


রাফি: তুমি কলেজে ক্লাস করা শুরু করবে কবে থেকে?


সাইমা: আপনি এখনো ক্লাস করার অনুমতি দেন নি। অনুমতি দিলে কিছু দিন পর থেকেই শুরু করবো। 


রাফি: কিছু দিন পর থেকেই ক্লাস করা শুরু করো। 


সাইমা: বিয়ের সময় আব্বু যদি পড়ানোর কথা বলে না দিতো তাহলে কি আমাকে পড়াতেন?


রাফি:


সাইমা: আচ্ছা যায় হোক। এখন আপনি বলেন কেন আমার সাথে এমন করছেন।


রাফি: এসব শুনলে তুমি হয়তোবা মিন খারাপ করবে তবুও যখন জানতে চেয়েছো তখন বলবো। কিন্তু আমার শর্ত আছে।


সাইমা: কি শর্ত?


রাফি: তুমি আমার আব্বু আর মা কে এই কথা বলতে পারবে না।


সাইমা: আচ্ছা ঠিক আছে।


রাফি: তুমি তো জানো আমি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু আমার মনমানসিকতা হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়। আমি আলেমদের সাথে উঠা বসা শুরু করি। রাসুলে(সা) সুন্নত হিসেবে মুখে দাঁড়িও রেখেছি। আবার সুন্নতি পোশাক ও পড়ি। কিন্তু মাদ্রাসায় পড়িনি তাই অনেক কিছুই জানিনা। 


সাইম: ওও


রাফি: আমার খুব ইচ্ছে ছিলো কওমী


মাদ্রাসার কোন আলেমাকে বিয়ে করার। আর একটু উজ্জল বর্ণের। আমার তো কোন কিছুর অভাব নেই। শুধু একজন মনের মানুষের অভাব ছিলো। বাড়িতে বিয়ের কথা বললে তোমার কথা আব্বু বলেছিলো। কিন্তু তোমার সাথে বিয়েতে আমার কোন মত ছিল না। কি হলো কি ভাবছো?


সাইমা: কই কিছু না তো। আপনার কথায় শুনছি। তারপর


রাফি: আব্বুকে বলেছিলাম কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তোমার সাথে বিয়ে এক প্রকার জোড় করেই দিলো। আমি তোমাকে বিয়ে করেছি কিন্তু ম

অবহেলা না ভালোবাসা

 গল্প :- অবহেলা না ভালোবাসা 










পর্ব :- ০১


--রিয়া আজকে একটু দেখা করতে পারবা..?


অনেকদিন ধরে আমাদের কোনো দেখা সাক্ষাত হয় না.?(আমি)


--ও স্যরি কাব্য আজকে দেখা করতে পারছি না। অন্যদিন দেখা হবে কেমন.?


আজকে আমার ম্যাথম্যাটিক্স-২ এসাইনম্যান্ট আছে।(রিয়া)


--আচ্ছা ঠিক আছে অন্যদিন নাহয় দেখা করবো। ভালোভাবে এসাইনম্যান্ট করো।(আমি)


--হুম....(রিয়া)


এইটুকু কথা বলেই রিয়া ফোনটা রেখে দিলো। একটাবারও খোঁজ নিল না আমি কেমন আছি?


সে  এরকম তো ছিলো না। তাহলে কী আমি তাকে আজও চিনতে পারি নি। আমারি কি ওকে চিনতে কোথাও  ভুল হয়েছে। এসব ভাবছিলাম আর টেইলর সুইফ এবং এলি গোল্ডউইং-এর গান শুনছিলাম।


ও আপনাদের তো আমাদের পরিচয় টা দেয়া হলো না । আমি কাব্য আহমেদ(নীল) । বাবা-মায়ের আদরের তিনমাত্র সন্তান মানে তৃতীয় সন্তান। অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আমি। আর  এতোক্ষণ যার কথা বলছিলাম, সে হচ্ছে রিয়া।


রাহিয়া চৌধুরী রিয়া। বাড়ি চট্টগ্রাম আমার আম্মুর বান্ধাবীর মেয়ে। সেই সূত্রে ওর সাথে আমার পরিচয়। পরিচয় থেকে ভালোলাগা। আর ভালোলাগা থেকে


ভালোবাসা।♥




ওর সাথে আমার রিলেশনশিপটা এসএসসির পর


থেকেই। কিন্তু বর্তমানের রিয়া আর অতীতের


রিয়ার সাথে অ‍ামি আর মিল খুঁজে পাই না। রিয়া আগে আমার অনেক কেয়ার নিতো, আর অভিমানটাও আহ্লাদী সুরে ভাঙ্গাতো। কিন্তু এখন সে অনেক ব্যস্ত। হয়তো তার লেখাপড়া নিয়ে। তাই হয়তো সময়


দিতে পারছে না। যাইহোক ওর ভালোটা আমিও চাই। তাই সবকিছু মেনে নেই। কিন্তু আমার ছোট ছোট আবদার গুলোও কী পূরণ করতে পারে না। খুব বেশী কিছুতো চাই নি। শুধু আমাকে একটু সময় দিবে। তাও ওর এটুকু সময় হয়ে উঠে না তারপরও আমি রিয়াকে অনেক বেশী ভালোবাসি।♥




মাগরিবের আযানের সুর ভেসে আসলো পাশের মসজিদ থেকে। গানটা বন্ধ করে উঠে আস্তে আস্তে বাসার উদ্দ্যেশে হাঁটতে লাগলাম। আর আনমনে ভাবতে লাগলাম ফেলে আসা দিনগুলো। এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে এলাম। এসে ফ্রেশ হয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম। একটা থ্রিডি ডিজাইন করতে হবে। আম্মু এসে চা দিয়ে গেলো। চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ ফোন আসলো একটা নাম্বার থেকে। যার কোড সংখ্যা নয়টা। আমি


পিকআপ করতেই, বললো....


--Hello Are You Kabbo Ahammad.?


--Yes I'm Kabbo Ahammad (আমি)


--Good. You are selection for study in Australia.


University of Melbourne.....


(ভালো আপনি অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে)


--Really..?


I'm Very Excited. Thanks For your good news.


(সত্যি..?


আমি অনেক আনন্দিত আপনার সুসংবাদটা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।


--Oky Good Bye....


--Oky Thanks.. 




আমি খবরটা শুনে খুশিতে আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম। আর বললাম...


--আম্মু আমি অস্ট্রেলিয়াতে পড়ার চান্স পেয়েছি।


আর আমার কথাটা শুনে আম্মু সাথে সাথেই খুশিতে কেঁদে ফেললো। তারপর খুশিতে  আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে চলে গেলো বাবাকে খুশির খবরটা


জানাতে। আম্মুরা হয়তো এমনই হয়, সন্তানের


আনন্দের সংবাদ শুনে যেমন কাঁদে। তেমনি


দুঃখের সংবাদ শুনেও কাঁদে। গুড নিউজ টা শুনে আব্বু ও কেঁদে দিলেন। অজান্তে আমার চোখ থেকেও দু'ফোটা জল গড়িয়ে নিচে পড়লো। আমি এবার বেসিনে গিয়ে চোখে পানির ঝাপটা দিয়ে আসলাম। আর ল্যাপটপটা বন্ধ করে ভাবলাম। রিয়াকে তো গুড নিউজটা জানানো দরকার। আর এমন সময় এসে আম্মু ডিনারের জন্যে ডাকলেন। তাই ভাবলাম খাওয়া দাওয়া শেষে জানাবো।




খাওয়া দাওয়া শেষ করে এসে রিয়াকে ফোন দিলাম। রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ পিকআপ করছে না। প্রায়


অনেকবার রিং-এর পর ফোন ধরলো রিয়া।, ধরেই


বলতে লাগলো।


--এতো বার ফোন দেওয়া লাগে নাকি? জানোনা আমি এই সময়ে ব্যস্ত থাকি।


রিয়া অনেক রেগে বললো কথাগুলো। তাই আমি কিছু না বলে চুপ করে আছি...। আমার চুপ করে থাকা


দেখে ও আবার বললো...


--কী হলো কথা বলছো না কেন ফোন দিয়ে? গাধা কোথাকার। কোন ছাগলের পাল্লায় যে পড়লাম আল্লাহ।


আমি চুপচাপ শুধুই ওর বলা কথা গুলো শুনছিলাম আজকে ওর গাধা বলায় অন্য দিনের মতো ভালোবাসা,


আর আদর মিশ্রিত ছিলো না। আজকে খুব বিরক্তি ও অবহেলা করে বলেছে রিয়া কথাগুলো। সে আমাকে এভাবে কখনো বলে নি। তারপর আমি ওসব বাদ দিয়ে বললাম.......


--স্যরি রিয়া অসময়ে ফোন দেওয়ার জন্যে...।


(একটু কান্নাময় কণ্ঠে)


--কিহ্ এখন ঢং শুরু করেছো?


অভিনয় না করে সোজাসুজি বলো কেন ফোন দিয়েছে...?


--দুপুরে খেয়েছিলে.?


--না। তুমি খেয়েছো.?


--হুম।


--আমার বদলে তুমি খেয়েছো। আমার না


খেলেও চলবে। (রাগ নিয়েই বললাে)


--ওহহহ...!!! আচ্ছা রাত্রে খেয়েছো...?


--না।


আর আমার খাওয়া নিয়ে তোমার এতো মাথাব্যাথা


কেন.?? তুমি তোমার টা নিয়ে ভাবো।(রিয়া)


--তুমি তো আমার প্রিয় মানুষটা তাই তোমার কেয়ার না নিয়ে কার কেয়ার করবো বলো!!!!


--যত্তোসব ঢং।


আমি খাই না খাই তা আমি নিজে বুঝবো। তোমাকে বলে দিতে হবে না। আর আমার যদি এতোই কেয়ার নেও তাহলে পড়ার সময়ে আর ফোন দিবে না।


--আচ্ছা ঠিক আছে।


তুমি ঠিক ঠাক মতো পড়ো, খাওয়া-দাওয়া করবে।


ঠিক মতো ঘুমাবে না হলে শরীর খারাপ করবে। তখন আবার ভালোকরে পড়তে পারবে না ওকে।।।।


(কান্না আটকিয়ে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কথা গুলো বললাম)


তারপর রিয়া আমার কথাগুলো শুনে আমাকে ছাগল বলে ফোন রেখে দিলো।


রিয়ার সাথে কথা বলার পড়েই সাথে সাথে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে ট্যাপ ছেড়ে কিছুক্ষণ খুব কাঁদলাম। কেনোনা শুনেছি কাঁদলে নাকি মানুষের মন হালকা হয়। কিন্তু আমার মনটা এতো কাঁদার পড়েও হালকা হচ্ছিলো না।  তখন আমার মনে হচ্ছিলো কেউ আমার বুকে পা দিয়ে চাপ দিয়ে ধরে রেখেছে। তারপর খুব কান্না করলাম রাত্রে। আর কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লাম।


সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম থেকে  উঠলাম। তারপর ব্রেকফাস্ট করে, উঠে নিজের কাগজপত্র সবকিছু রেডি করলাম। জমা দিতে হবে। খুব বেশী দিন সময় নেই  আর আমার হাতে। কিন্তু এই সুখবরটাও রিয়াকে এখনো জানাতে পারলাম না। ওর কথা মনে পড়তেই   আবারো আমার চোখ দিয়ে পানি চলে এলো মনে হলো গতকাল রাত্রের কথা।


তারপরেও এতো কিছুর পরেও আমি রিয়াকে ফোন দিয়ে ওর খোঁজ খবর নিতাম।


ওর খাওয়া-দাওয়া,পড়া-শোনার খবর নিতাম।


কিন্তু ও?


ও ওর মতোই নির্লিপ্তি থাকতো। আর আমার সাথে তেমন খুব একটা ভালোভাবে কথা বলতো না। তখন আমার ওর কাছে নিজেকে খুব নিঃস্ব মনে হতো।


এখন আর রিয়া রাত্রে আমায় ফোন দেয় না। ও হয়তো ব্যস্ত থাকে ওর পড়াশোনা নিয়ে। কিন্তু আমার রাত্রে ও কী খাওয়া-দাওয়া করেছে কিনা জানতে ইচ্ছে করতো খুব।


মাঝে মধ্যে ফোনও দিয়ে দিতাম। আর ও খুব বকতো আমার, মনে হয় আমি ওর কাছে কোনো গুরুত্বই বহন করছি না। আমার খুব কষ্ট হতো তখন। বুক ফেটে কান্না আসতো। ছাদে বসে খুব কাঁদতাম। ভালোবাসার শুরুটা আবেগ-এ হলেও পরিণতিটা যে অবহেলায় হয়, আজ তা বুঝতে পারলাম'ওর কাছ থেকে। 


ছাদে বসে আমি অনেক জোরে জোরে কান্না করলাম।  আর উপর ওয়ালা কে বলতে লাগলাম যে।


:-হে আল্লাহ্ কী অপরাধটা ছিল আমার যার জন্য আমাকে তুমি এমন করে কষ্ট দিচ্ছো।


কষ্ট যদি দাও তবে সইবার ক্ষমতা দাও না কেন?


আমি আর কষ্টগুলো বহন করতে পারছি না।


আমায় তোমার কাছে নিয়ে যাও। আমার এ কান্নার শব্দগুলো অনেক দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ জানে না এই কান্নারর কারণটা কী।।।।।


তারপর আস্তে আস্তে আমাে কান্না কমে আসলো। নিজেকে এখন খুব ভারি বোঝা মনে হলো নিজের কাছে....। তারপর খুব কষ্টে রুমে চলে এলাম। এসে না খেয়েই শুয়ে পরেছি। ফ্রেশ-ট্রেশ কিচ্ছু হইনি। আম্মু


ডাকছিলো, বললাম ক্ষুধা নেই।


এর মধ্যে এগিয়ে আসছে ১৪ই ফেব্রুয়ারী। এই দিনটা তাকে নিয়ে কাটাতে চাই, যেভাবেই হোক.....


এজন্য ফোন দিলাম রিয়াকে...। কিন্তু সে না ধরে ওর আম্মু ধরলেন...


--হ্যালো..!!(তুবার আম্মু)


--আন্টি. আসসালামু ওয়ালাইকুম..।(আমি)


--ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছো বাবা কাব্য?


তোমার আব্বু আম্মু কেমন আছে.??


--জ্বী আন্টি আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমি ভালো আছি।


(মিথ্যা বললাম) আর আব্বু-আম্মুও ভালো আছে..। আর আপনারা কেমন আছেন.?


--হ্যাঁ বাবা আমরাও সবাই ভালো আছি। আর আমি শুনলাম তুমি নাকি অস্ট্রেলিয়া চান্স পেয়েছো বিএসসি করার জন্য?


--আলহামদুলিল্লাহ্‌ জ্বী আন্টি দোয়া করবেন।


--তাতাে অবশ্যই।


ওখানে গেলে আমাদের ভুলে যেও না আবার।


--কী যে বলেন আন্টি..?


আমি কি আর আপনাদের ভূলতে পারি!! নাহ্ আন্টি আমি আপনাদের কে কখনই ভুলতে পারবো না। আন্টি রিয়া কই..?


--রিয়া তো ওর রুমেই আছে.... ওয়েট করো দিচ্ছি।


কিছুক্ষণ পরে.......


--হ্যালো....!!!(রিয়া)


--কেমন আছো রিয়া...?


--আছি ভালোই।


খারাপ থাকার তো কোনো কারণ নেই।


(তাচ্ছিল্যেরর সুরে)


--ওহহ। ভালো..! (একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম)


আমি কেমন আছি জানতে চাইবে না।


--না।


কারণ তুমি ভালো আছো...। সেটা আমি খুব ভালো করেই যানি.!


আমি ওর বলা কথা গুলো শুনে মনে মনে অনেক বেশী কষ্ট পেলাম। তারপরেও:-


--নাহ্  আমি একটুও ভালো নেই। তোমায় ছাড়া.!(কেঁদেই দিলাম এবার)


--হুম! বুঝলাম।


--রিয়া প্লিজ আমায় এভাবে আর  কষ্ট দিও না। আমি খুব মিস করি তোমায়। তোমায় জন্য কাঁদি খুব।


প্লিজ তুমি এমন পাশান মনের মানুষ হয়ো না।


(কাঁদার কারণে ফুঁফিয়ে বের হচ্ছে কথা)


--কাব্য আবারো তোমার সেই ন্যাকা কান্না শুরু করে দিলে। যত্তোসব..!!! দিলে তো মুডটাই নষ্ট করে।


--আচ্ছা রিয়া আমার কথা কী তোমার একবারও মনে


পড়ে না.?


--না মনে পড়ে না । তবে পড়লেও খুব কম।


--আচ্ছা তুমি তো এমন ছিলে না.। কতো ভালোবাসতে আমায়। কেয়ার করতে.। আজ এমন হলে কেন.?


কেন রিয়ক কেন...? (জোরে কেঁদে দিলাম)


--সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কাব্য, হ্যাঁ সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে, আর তুমি একটা বোরিং ছেলে.! তোমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না আর অমার।


--এমন করে বলো না প্লিজ। আমার খুব কষ্ট হয়।


--এই তোর মতো ছেলেকে কী ভাবে বলবো রে। আহ্লাদ করে। এই সময় আর আমার নাই। আর তুই আমাকে ফোন দিবি না। ডিসগাস্টিং......টুথ টুথ টুথ.!


এই বলেই ফোনটা খুব জোরে রেখে দিলো রিয়া। এদিকে ওর বলা কথা গুলো শুনে আমার অনেক কান্না


আসছে চোখের জলগুলো বাঁধ মানছে না। আমি মানতেই পারছি না যে রিয়া আমাকে এভাবে হার্ট করতে দ্বিতীয়বার ভাবছে না। হে খোদা সবাই কেন এতো কষ্ট দেয়।


রিয়া কী আমাকে একটু ও আর  বোঝে না। জবাব দাও খোদা..?? জবাব দাও......???


এসব বলে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেলাম।


সকালে উঠে ব্রাশ করতে করতে আয়নায় দেখছি


নিজেকে। নিজেকে নিজেই চিনতে পারছি না।


সব কিছু থেকেই যেন প্রাণ হারিয়ে গেছে।


কোনো চঞ্চলতা নেই। সবকিছু প্রাণহীন লাগে। খাবারটাও স্বাদহীন....। আর এমনিতেও মন ভালো থাকলে সবকিছু ভালো থাকে.....


এভাবে আরো কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেল।


এই কয়েকদিনে আম্মু আমার অবস্থাটা বুঝতে


পারেছে। এটা নিয়ে রিয়ার আম্মুর সাথেও মনে


হয় কথা বলেছে। আর এটা আমার সাথে ব্রেকফাস্ট টেবিলে কথা বলার সময় বোঝতে পারলাম।


তারপর রিয়ার আম্মু হয়তো রিয়াকে বুঝিয়েছে.! তাই আজকে রিয়া ফোন দিলো বিকেলে আমাকে.! আর আমিতো ওর ফোন পেয়ে খুশিতে আত্তহারা।


--হ্যালো...।


--হ্যালো কাব্য কোথায় তুমি.?(রিয়া)


আমার তো খুশিতে কথাই বের হচ্ছে না। ওফোন দিয়ে


কথা বলছে দেখে....।


--আআআ আমি...।


বাসায়.। কেমন আছো তুমি.?


--এইতো ভালো।


আজকে সন্ধ্যায় তুমি সিপি ফাইভ স্টারে দেখা করবে?


--আচ্ছা ঠিক আছে...


আমি ওর সাথে কথা বলতে পেরে খুশি মনে ওয়াশরুমে ঢুকে সেভ করে নিজেকে ফ্রেশ করে নিলাম। তারপর রেডি হলাম আস্তে আস্তে....।


বিকেলবেলা আমি ওর জন্যে বসে আছি। অনেক্ষণ ওয়েট করার পর রিয়া আসলো। এসেই বসলো মুখোমুখি চেয়ারে.। তারপর সে ওর হ্যান্ডব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে মুখটা মুছলো। আর এদিকে আমি ওর দিকে শুধুই তাকিয়েই আছি.। রিয়া ওর  মুখ মুছে আমার দিকে খেয়াল করলো। এতো সময় ধরে যে তার সামনে একটা ছেলে বসে আছে হয়তো তার মনেই হচ্ছে না.। তাই আমিই বললাম....


--কেমন আছো রিয়া....???


--হুম। ভালোই...।


কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো আমার সময় নেই...।


--দুপুরে খেয়েছিলে..?


--তুমি এগুলো বলতে আমায় ডেকেছো.?


আমি শুধুই মাথা নাড়লাম.। ও আবার বললো...


--আচ্ছা আমি যে কারণে ডেকেছি তোমায়.।


--হুম বলো..। কি কারণে?


--আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমার পরীক্ষা শুরু হবে। তাই আমি চাইনা তুমি আমার আম্মু বা আমাকে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব কর...।


আর……




পর্ব :- ০২




:--আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমার পরীক্ষা শুরু হবে। তাই আমি চাইনা তুমি আমার আম্মু বা আমাকে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব কর.!!


আমি রিয়ার কথায় শুধু মাথা নাড়লাম। এমনিতেও রিয়ার বলা কথাগগুলো শুনে আমার চোখে অশ্রু ভীড় করছে। আমি মাথা নিচু করে আছি। কারন ওকে বুঝতে দিব না তাই।


তারপর রিয়া আমার মাথা নাড়ানো দেখে আবার বললো।


(তবে এবার একটু রেগে গিয়ে বললো,)


--কাব্য তোমার কী কিছুই বলার নেই?


;-হুম। আছে...


(খুব ছোট্ট করে ভাঙ্গা গলায় বললাম....)


--হ্যাঁ তাহলে বলো কী বলবে?


--ভালো ভাবে পরীক্ষা দিয়ো। টিক মতো খেয়ো। সময় মতো ঘুমিয়ো। আর নিজের যত্ন নিয়ো।


আমার কথাগুলো শুনে রিয়া খুব রেগে গিয়ে আমাকে বললো:-


--এই তোর কী এসব ছাড়া কোনো কথা নেই। আমি আমার মতো থাকবো তাতে তোর কী.? আর তুই আমার খোঁজ করবি না। তোর কেয়ার গুলো


আজ আমার বিরক্ত লাগছে। আমাকে মুক্তি দে তুই এসব থেকে.। (রিয়া)


এই বলেই রিয়া আমার কাছ থেকে  হনহনিয়ে চলে গেলো। আর এদিকে  আমি কান্না ভেঁজা চোখ নিয়ে ওর গমন পথের দিকে তাঁকিয়ে থাকলাম। ও আমার চক্ষের আঁড়াল হয়ে যাবার সাথে সাথেই আমি ডুকরে কেঁদে উঠলাম। হয়তো অনেকেই হাঁসছে। কিন্তু তারা তো আমার কষ্ট বুঝবে না। তারা তো আর এটা জানে না যে আমি এখানে কেনো কাঁদছি। তারপর হঠাৎ কেউ একজন এসে আমার পিঠে হাত দিয়ে মাথায় হাত


দিলো। আমি চোখগুলা বাম হাত দিয়ে মুছে তার  দিকে তাকালাম। দেখলাম একটা ছেলে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছে। আমি চোখ তুলে তাকানোতে বললো...


--ভাইয়া এভাবে কেঁদোনা, একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে...??(ছেলেটা)


--সত্যিই কী ঠিক হবে ভাইয়া.। চাইলেই কী সব ঠিক হয়...(ভাঙ্গা কণ্ঠে বললাম আমি)


--এখন বাসায় যান আর কাঁদবেন না.। সবাই তাকাচ্ছে আপনার দিকে...!!!


--হুম....।


এই বলেই সেখান থেকে সোজা বাসায় চলে আসলাম।


আর বাসায় এসেই আমি আম্মু আর আব্বুকে ধরে খুব কাঁদলাম.। তারপর বললাম :-


--আম্মু তোমার ছেলেতো কাউকে কষ্ট দেয় নি জেনে-শুনে.? তাহলে সবাই আমাকে কেন কষ্ট দেয়? 


আমার কথা শুনে আম্মুও আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন :-


--কী হয়েছে তোর বাবা? তুই এভাবে কাঁদছিস কেন? আমাকে বল.! এই বলেই আমার সাথে আম্মুও কেঁদে দিলো...।


--আম্মু তুমি তোমার পাগল ছেলেটাকে ক্ষমা করে দিয়ো। তোমায় হয়তো না বলে কষ্ট দিয়েছি কতো?


--কী বলছিস তুই যাতা কথা। তুই এরকম তো করিস না কখনো হঠাৎ আজ কি হলো?


( আম্মু কান্নাভেঁজা কণ্ঠে খুব কষ্টে বললো..)


তারপর কাঁদতে কাঁদতে বাবাকেও বললাম...


--বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো. আমি হয়তো তোমায়


কতো কষ্ট দিয়েছি...???


বাবা এবার আমার কথা শুনে কেঁদে ফেললো তারপর।


--কী বলছিস বাবা তুই এসব। আর তুই এমন করছিস কেন? তোর কি হয়েছে রে বাবা....!!! (বাবা)


--না বাবা।


আমি জানি যে আমি তোমাকে আর মাকে  খুব জ্বালাই, আর তোমরাও আমার দেয়া কষ্ট গুলো মুখ বুঝে সহ্য করো। তাই তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো প্লিজ। (কথা গুলো অনেক কেঁদে কেঁদে বললাম )

অদ্ভুত ভালোবাসা

 অদ্ভুত ভালোবাসা








পর্ব ১


নীরা আর তার বান্ধবীরা কলেজ থেকে বের হচ্ছে এর মধ্যে নিলয় সিগারেটের ধোয়া উড়াতে উরাতে নীহার সামনে এসে পথ আটকিয়ে দাড়ায়


নিলয়: নীরা তোমার সাথে আমার একটু কথা আছে বাকিরা যেতে পারো


নীরা: আপনার মতো ফালতু লোকের সাথে আমার কেনো কথা বলার মতো সময় নাই


নিলয় : হ্যাঁ হ্যাঁ আমার সাথে তো তোমার কথা বলার টাইম ই নাই আর সবার সাথে গা ঢলাঢলি করতে তো তোমার অনেক সময়


নীরা : mind your language mr. niloy... আপনি আমার parsonality নিয়ে কথা বলার অধিকার কই পান হ্যা লজ্জা বলতে কিছু নাই না আপনি নিজে কি একবার ভেবে দেখছেন?? বড়লোক বাবার উচ্ছন্নে যাওয়া ছেলে যার না আছে কোনো গুন আছে কোনো parsonality সারাদিন বাইকে ঘোরা আর মেয়েদের টিজ করা ছাড়্ আপনার কেনো কাজ আছে কে আপনি হ্যা আমার ভাই বন্ধু বি এফ??? কেনো কথা বলবো আপনার সাথে??? আমার লাইফ টা মজা বানিয়ে দিছেন আপনি


নিলয়: আমি তোমার কাছে আমার carecter certificate নিতে আসিনি বুঝলা ওই ছেলের সাথে যেনো আর কথা বলা না দেখি বলে দিলাম। তা না হলে তোমার কপালে দুঃখ আছে বলে দিলাম


নীরা আমি আপনার ঘরের বউ না যে আপনি যা বলবেন আমার শুনতে হবে আর না আমার ওপর আপনার কোনো অধিকার আছে ওকে???? সরেন আমার সামনে থেকে


নিলয়:: কাজটা তুমি মোটেই ভালো করলেনা নীর তোমার ওপর যে আমার অধিকার কি সেটা আজ বুঝবে


এবার আসিন জেনে নেই এই অদ্ভুত ভালোবাসার হিরো হিরোইনদের পরিচয় এতক্ষন যে মেয়েটি না ছেলেটিকে ঝাড়ি দিলো সে আমাদের নায়িকা নীরা নীহারিকা নীরা কলেজে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী বাবা মা এর একমাত্র আদুরে মেয়ে ওর বাবা ব্যাংকের ম্যানেজার আর মা সংসার সামলান সংসার সামলানো কিন্তু চাট্টিখানি কাজ না যে করে সে যানে 🙂


আর যে ছেলেটি মানে আমাদের হিরো সব ঝাড়ি সহ্য করলো হয়তো ক্ষনিকের জন্য তার নাম নিলয় মাহমুদ পড়াশোনা কমপ্লিট তাও কলেজে পরে থাকে বাবার একমাত্র সন্তান মা মারা যাবার পর তার বাবা আরেকটা বিয়ে করে নিলয় এর দেখাশোনার জন্য কিন্তুু অসুভাকাঙ্খীদের কান ভাঙানিতে নিলয় কখনও তাকে মা বলে ডাকে নি কিন্তুু উনার মেয়ে নিলয় এর জান ওরে বলতে নিলয় পাগল মা মরা ছেলের প্রতি কেনো শাসন করতে পারে নি নিলয় এর বাবা যার ফলে নিলয় এখন পুরাপুরি বখে গেছে


কলেজ এ নীরা কে প্রথম দেখায় নিলয় এর খুব ভালোলাগে অনেকবার প্রপোজ করে কিন্তুু নীরা ও না বলে দেয় কারন নিলয়কে নীরার কোনোদিক থেকেই ভালো লাগে না আর ভালোবাসা তো দুরে থাক নিলয় নীরাকে তার ক্লোজ বন্ধু আশিক এর সাথে কথা বলতে বারন করে কিন্তুু নীরা নিলয় এক কেনো কথার পাত্তা না নিয়ে ওর সামনেই আশিকের হাত ধরে গল্প করে নিলয় লাস্টবার বারণ করতে আসে কিন্তু নীরা নিলয়কে ওই কথাগুলা শোনায় দেয় পরে আশিকের সাথে বাসায় যাবার জন্য বেরিয়ে যায় রাস্তায় নিলয় গাড়ি নিয়ে আশিকের বাইক এর সামনে দাড়ায় তারপর দুজনকেই জোর করে গারিতে তুলে নেয়


নীরার যখন সেন্স ফিরলো তখন নিজেকে সুন্দর একটা ফুল এ ভরা বিছানায় আবিস্কার করে নীরার রুম টা খুব ভালো লাগে ধুরে ঘুরে দেখতে থাকে তখন ওর আশিক এর কথা মনে পরে


নিলয় :আমার নীর পাখিটা কি করছে????


নীরা : মানে কি এসবের??? আশিক কই???


নিলয় : মরে নি এখনও কিন্তুু আমার কথা না শুনলে যে ওর কি হবে তা আমি নিজেও বলতে পারছিনা


নীরা :আপনি কিন্তুু মোটেই ভালো করছেন না আমি কিন্তু পুলিশ এর কাছে যাবে


নিলয় :;:: আমার নীর পাখিটার এত্ত কষ্ট করতে হবে না উনি আমার এখানেই আছে আশিক কে মারার পর উনি এক্সিডেন্ট কেস বানিয়ে চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিবে


নীরা :আপনি কেনো করছেন এটা???? প্লিজ আমায় ছেড়ে দিন আমায় আমার মতো বাচতে দিন


নিলয় :: নীর পাখি আমি তোমায় শুধু এখন পেপার ফরমালিটি তে বিয়ে করবো যাতো তোমার ওপর আমার অধিকার থাকে ছোট্ট একটা সই দিয়ে তুমি বাসায় চলে যাবে


নীরা:: : আমি আপনার সব কথা শুনবে প্লিজ এ কাজ টা আমি করতে পারবো না


নিলয় ঠিক আছে নীর তুমি বারি যাও


নীরা: আশিক???


নিলয়:: : ওরে তো আর আমি ছাড়ছি নামরতে হবে ওরেওরে বারন করছিলাম তোমার সাথে কথা বলতে কিন্তুু ও আমার কথা শোনে নাই


নীরা :; কি চান আপনি???


নিলয় :এই পেপার টাতে জাস্ট একটা সই


নীরা: কোথায় সই করতে হবে


পর্ব ---২


নীরা : কোথায় সই করতে হবে????


নিলয়: এইতো আমার নীর পাখি এখানটায়


নীরা : আগে আমি আশিককে আমার সামনে চাই


নিলয়: তুমি সই টা করে দাও আমি ওকে সশরীরে বাসায় পৌছে দিবো বিশ্বাস রাখো আমার ওপর


নীরা : হা হা হা হা ( তাচ্ছিল্লের হাসি দিয়ে) বিশ্বাস আর আপনাকে আজ যে কাজ টা আপনি করলেন তারপর আপনার মুখটা দেখতেও আমি রাজি না i just hate you just hate you


নিলয় : এমন টা বলোনা নীর এই নিলয় তার নীর টিকে পাওয়ার জন্য যে কোনো কাজ করতে পারে তার জন্য আমার কাউকে খুন কেনো না করতে হয় তুমি শুধু আমার নীরা তুমি শুধু আমার তুমি শুধু আমায় ভালোবাসবে just me আর আমার কথা না শুনলে যে কি করতে পারি তা তুমি ভালোভাবেই জানো


নীরা :কি চাইছেন টা কি আপনি বলেন তো??? কিসের জন্য আমার পিছে পড়ে আছেন সত্যিই আমায় ভালোবেসে নাকি আমার এই শরীর টার জন্য???


নিলয়: জান কি বলছো তুমি এইসব


নীরা :আমি ঠিক বুঝতে পারছি আপনাদের মতো ছেলেদের দেরি করছেন কেনো নিন আপনার ভালোবাসার পূর্নতা করে নিন মিটিয়ে নিন আপনের মনের ইচ্ছা


নিলয় নীরার হাত টা পিছে দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে এক হাত দিয়ে মুখটা হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরে


নিলয় :: আর একটা কথা বললে এখানেই মেরে পুতে ফেলবে তোমায়


নীরা নিলয় এর চোখ এর দিকে দিকে তাকিয়ে রীতিমতো ভয় পেয়ে যায় নিলয় এর মধ্যে মনে হচ্ছে কোনে হিংস্র দানব ঢুকে গেছে ও নীরার গালটা এমন করে ধরছে যে নীরার ঠোট কেটে গাল বেয়ে রক্ত বেয়ে পরছে


নিলয় তারাতারি করে নীরাকে ছেরে দিয়ে ওকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরলো নীরা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে থাকে


নিলয়: মাইনক্যা মাইনক্যা কই গেলি জলদি আয়


মানিক :জি স্যার


নিলয় : তারাতারি ওষুধের বাক্স টা নিয়ে আয়


নিলয় ওষুধের বক্স টা নিয়ে নীরার কাছে দিয়ে ফ্লোরে বসে পরলো নিলয়ের হাতটা কাপছিলো নীরার ঠোটে ওষুধ লাগাতে লেগেনীরা নিলয়ের কাজ কর্ম দেখে অবাক হয়ে যায় মাত্রই যে ব্যবহার করলো আর এখন কি করছে


নিলয়:: জান তুমি এখন এখানে বিশ্রাম করো


নীরা: আমি বাসায় যাবো


নিলয় : ঠিক আছে এখানে একটা সই দাও তোমায় বাসায় রেখে আসি নাও তারাতারা


নীরা : আমি একাই যেতে পারবো আপনার যেতে হবে না


নিলয়:তোমার কাছ আমি শুনতে চাইছি আমায় কি করতে হবে???? কর্কশ কন্ঠে


নীরা নিলয়ের চিল্লানি শুনে তারাতারি সই করে দেয় আজ নিলয়কে নীরা খুব ভয় পাচ্ছে কারন এতদিন নিলয়ের এই রুপ নীরার কাছে অচেনা ছিলো


নিলয় : চলো আর হ্যা কাল থেকে আমার কথা মতো চলবা কিছু করার চেষ্টা করলে আমার থেকে কেউ খারাপ হবে না আর এই সব টাইট ফিটিং জামাকাপড় একদম পড়বা না আর হ্যা ঠিক মতো খাবে বাসা থেকে কোনে কাজ ছাড়া বের হবা না কোনো ছেলের সাথে কথা বলবা না আমার রাগ উঠবে এমন কেনো কাজ করবা না আমার রাগের সামনে যে আসবে সে কিন্তুু শেষ হয়ে যাবে কি মনে থাকবে???


নীরা মাথা নারিয়ে হ্যা বললো মেয়েটা অনেক ভয় পেয়েছে আজ নিলয় বুঝতে পারলো যে নীরা ভয় পেয়েছে


নিলয়: নীর পাখি একদম ভয় পেয়ো না আমি তো তোমার জন্যই এইসব করছি তুমি যদি সকালে আমায় অধিকারের কথা না বলতে তো আজ এতকিছু হতো না আর একদিকে ভালোই হইছে তোমার ওপর আমার অধিকারটা পারমানেন্টলি হয়ে গেলো খুব জলদি তোমায় আমার কাছে নিয়ে আসবো জান


বলে নিলয় নীরাকে হালকা করে জরিয়ে ধরে নীরা কিছুই বলেনা কারন ও ভালোভাবেই বুঝতে পারে নিলয় নামের প্যারা ওর জীবন থেকে সহজে যাবে না ওর এই অদ্ভুত ভালোবাসা নীরার জীবনকে উল্টিয়ে দিবে


নিলয় নীরাকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে আসে নিরা বাসায় আসলে ওর মা এর হাজার প্রশ্নে মধ্যে দিয়ে ওর রুম এ ঢুকে বিছানার ওপর টান হয়ে শুয়ে পরে


নীরা:কি স্বপ্ন নিয়ে আমি কলেজে গেলাম আর আমার সাথে এসব কি হচ্ছে কোন কুক্ষনে যে ওই কলেজে ভর্তি হতে গেলাম আল্লাহ্ জানে সেই প্রথম দিন থেকে বদমাইশ আমার পিছে পরে আছে ওর জন্য কলেজে কোথাও শান্তিতে বসতে শুধু পারি না একটা ছেলে এত্তটা খারাপ কি করে হতে পারে.... আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলো ও কত্ত বরো বেয়াদব ছেলে আমি কি করে আজকের কথাটা বাসায় বলবো ও যদি আমার বাবামা এর ক্ষতি করার চেষ্টা করে??? ওর মতো জানোয়ার কে কোনো বিশ্বাস নাই আমাকেই কিছু একটা করতে হবে যাতে ও আমায় নিজে থেকে ছেড়ে দেয়


পরদিন কলেজে সবাই নীরাকে দেখে রীতিমতো তামাশা শুরু করে দেয় কারন নীরা আজ পর্দার মতো ঢিলা সালোয়ার পরে কলেজ গেছে যে মেয়েটার স্টাইল দেখে যে কোনো ছেলে হুমড়ি খেয়ে পরে আজ সেই মেয়ে সবার কাছে হাসির পাত্রী হয়ে গেলো নীরা কান্না করতে থাকে আর নিলয় এসে নীরার সামনে দারালো


নিলয়: আমার নীহু টা কাদছে কেনো????


নীরা ': এবার আপনার শান্তি হয়েছে তো সবার সামনে আমি জোকার হয়ে গেলাম


নিলয়: কে বলেছে তোমায় এই কথা আমায় একবার বলো কার এত্তবড় সাহস আমার নীরু কে কাদায় চিল্লিয়ে


ভয়ে আসেপাশের সবাই দৌড়ে চলে যায় নীরা ভালোভাবেই জানে নিলয় রাগলে আর কারো নিস্তার নাই তাই প্রসঙ্গ পাল্টে বললো আমার আপনার সাথে একটা কথা ছিলো


নিলয় : বলো না জান আমি তো তোমার কথা শোনার জন্যই আছি বলো


নীরা: আমার একটা ছেলের সাথে ৩ বছরের সম্পর্ক আছে ৩ বছরের সম্পর্কে কি কি হতে পারে নিশ্চয় আপনার ধারনা আছে তো প্লিজ আমায়


কথাটি শেষ করতে পারে না তার আগেই নিলয় সজোরে নীরার গালে থাপ্পর মেরে দেয় নীরা টাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পরে যায় নীলয় নীরার দুবাহু শক্ত করে ধরে টেনে তুলে নীরা নিলয়কে দেখে চমকে ওঠে কারন নিলয়কে কাল নীরা যেমন দেখে ভয় পাইছিলো আজ তেমন ই দেখাচ্ছে


নিলয়: তোর একজন কেন একশ জনের সাথে রিলেশন থাকলেও আমি তোকে ছাড়বো না কিন্তুু তোর সবাইকে ছাড়তে হবে না পারলে আমি বাধ্য করবো দ্বিতীয় বার এমন কথা মুখে আনার আগে ২ বার ভাববি


পর্ব ৩


নিলয়ের কথা শুনে নীরা চুপ মেরে যায়


নিলয়: তুমি ভুলে যাচ্ছো যে তুমি এখন শুধু আমার পছন্দের মানুষ নেই আমার বউ তুমি আমার জীবনের সাথে তোমার জীবনটা জরিয়ে গেছে প্লিজ নীরু তুমি ভালোভাবেই জানো আমি মরে গেলেও তোমায় ছাড়বো না তাই বাধ্য করো না আমায় কারো ক্ষতি করতে তোমার মনে কেউ যদি থেকেও থাকে তাকে ভুলে যাও এতে তোমার আর তার দুজনেরই মঙ্গল যাও ক্লাসে যাও


নীরা চুপচাপ ক্লাসে চলে যায় কিন্তুু ক্লাসে আর কেউ ওর সাথে ভালোভাবে কথা বলে না নিলয়ের জন্য এখন নীরার সাথে কেউ ভালোভাবে মিশেনা এমনকি স্যার ও কিছু বলে না নীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে ক্যাম্পাসে বসে পরে ভাবতে থাকে


নীরা:আমি কি করে এর থেকে মুক্তি পাবো আল্লাহ্ বলে দাও তুমি কেনো আমার সাথেই এমন হচ্ছে এভাবে আর আমি এখানে থাকতে পারবো না


এর মধ্যে নীরার মা ফোন দেয়


নীরা; হ্যা মাদার ইন্ডিয়া বলো


নীরার মা: কিরে কই তুই তারাতারি বাসায় আয়


নীরা : কেনো কি হয়েছে


নীরার মা': আরে কাল বলালাম না মিসেস মুনমুন এর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান এ যেতে হবে


নীরা: মা আমি কোথাও যেতে পারবো না তুমি আর বাবা চলে যাও


নীরার মা : আমি তোর কথা শুনতে চাই না তারাতারি বাসায় আয় তোর বাবা তোর জন্য বসে আছে ভদ্রতা বলতে কিছু আছে বুঝলি জলদি আয়


নীরা : ঠিক আছে আসতেছি উড়ে যাবো নাকি হ্যা টাইম লাগবে রাখছি


নীরা চলে গেলো বাড়ির উদ্দেশ্যে আর এদিকে নিলয় চলে যায় ওর বাসায় বাসায় ঢুকতেই নিলয়ের বোন দৌড়ে এসে নিলয়ের গলা জড়িয়ে ধরে


তিশা: ভাই কই ছিলা তুমি এত্তক্ষন আমি সেই কখন থেকে রেডি হয়ে বসে আছি আমার সব সাজ নষ্ট হয়ে গেলো


নিলয়: আমার তিশা মনিটা দুনিয়ার সব চাইতে best petty sweet beautyqueen girl তোমার সাজার কি দরকার আমি এখনই চট করে তৈরি হয়ে আসি তুমি ৫ মিনিট টাইম দাও


নিলয়ের মা : বোনকে এত্ত লাই দিও না মাথায় চড়ে যাবে


নিলয়: সেটা আমি বুঝবো আপনার ভাবতে হবে না


নিলয়েরর মা: কোথায় যাবে তোমরা???


নিলয়: সেটা আপনার না জানলেও চলবে নিজের গন্ডির মধ্যে থাকেন মা হবার চেষ্টা করবেন না


নিলয়ের মা এর সব কিছু অভ্যাস হয়ে গেছে নিলয়ের অনেক কঠিন ভাষাও নিলয়ের মা সহ্য করে নিছেকিন্তুু কনোদিন কিছু বলে নি তার একটাই আশা নিলয় একদিন তাকে ঠিকই মা বলে মেনে নিবে


নীরাকে এদিকে ওর মা শুধু বিয়ে বারিতে ভদ্রতা বজায় রাখতে যায় নি উনার বান্ধবি মিসেস মুনমুনের ছেলে পিয়াস এর সাথে দেখা করিয়ে দেবার জন্য নীরার মা এর পিয়াস কে অনেক পছন্দ কিন্তুু নীরাকে বললে রাজি হবে না তাই নীরার মা এই প্ল্যান টা করে নীরাকে নিয়ে যায়


নীরা : ধুর ধুর সবাই মিলে আমার কলিজা টা টানাটানি করতে শুরু করেছে আল্লাহ্ বাচাও আমায় এই শাড়ি পরে আমি কেমনে যাবো


নীরার মা : কিরে তোর হলো জলদি আয় গাড়ি দারিয়ে আছে


নীরা: আসতেছি


আল্লাহ আর যাই হোক ওই গুন্ডার সাথে যেনো দেখা না হয়


বিয়ে বাড়িতে এসে নীরার ভালই লাগছে কারন সবাই নীরার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে আর থাকবেই না কেনো আজ নীরা হলুদ শাড়ি পরছে সাথে ম্যাচিং কানের দুল গলার মালাঠোঁটে লাল লিপস্টিক কপালে টিপ হাত ভর্তি হলুদ কাচের চুড়ি একদম হলুদ পরীর মতো লাগছে নীরা সবাইকে আর চেখে দেখছে আর মনে মনে ভাবছে


------- বাহ্ নীরা তোকে তো মনে হচ্ছে অনেক সুন্দর লাগছে সবাই তো হা করে তাকিয়ে আছে তার জন্যই তো ওই গুন্ডা টা তোর পিছে পড়ে আছে হ আরো সুন্দরী হ


নীরা বুঝতেই পারলো না এতো মানুষের মধ্যে এক জোড়া চোখ ওর দিকে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে আর কেউ না নিলয়


নিলয়: ওর সাহস কি করে হয় এত্ত সেজে কোথাও আসার কত্ত ছেলে ওর দিকে তাকিয়ে বাজে চিন্তা ভাবনা করছে ওর জানা আছে পাখা গজিয়েছে তোমার দাড়াও পাখা কেটে দেবার ব্যবস্থা করছি


এর মধ্যে একটা ছেলে নীরাকে ডাকে


ছেলেটি : excuse me miss হলুদ পরি


নীরা : জি আমাকে বলছেন???


ছেলেটি : জি হ্যা আপনাকেই বলছি আপনি ছাড়া এই পুরো বিয়ে বাড়িতে হলুদ পরী কে আছে???


.


নীরা : আপনি একটু বেশিই বলছেন


ছেলেটি : আমার কিন্তুু বেশ অহংকার আর হিংসে হচ্ছে জানেন


নীরা : হিংসা কেনো???


আর অহংকারই বা কেনো


ছেলেটি : দুদিন পর যার সাথে আমার বিয়ে তাকে যে সবাই এই ভাবে দেখছে তাই আমার হিংসে হচ্ছে আর তুমি যে এতই সুন্দরী তাই আমার অহংকার হচ্ছে


নীরা : মানে কি বলছেন আপনি


ছেলেটি : আসেন আমরা ওইখানটায় বসে কথা বলি


নীরা : না যা বলার এখানে বলেন না হলে না বলেন


ছেলেটি : আচ্ছা আচ্ছা কুল এখানেই বলছি হায় আমি পিয়াস যার বিয়েতে আসছেন আমি তার ভাই


( হাত এগিয়ে দিয়ে)


নীরা হাত মেলাতে যাবে তখনই দেখে নিলয় রাগি চোখে ওর দিকে এগিয়ে আসছে নীরা নিলয়কে দেখেই উল্টোদিকে দেয় দৌড় আর পিয়াস হা হয়ে থাকে নীরার যাবার দিকে


নিরা : আল্লাহ্ এইটা কি হলো যেটা না চাই তুমি সেটাই দু হাত ভরে দেও আমি এখন কই যাই


কিনতু সামনে থেকে নিলয় এসে নীরার হাত ধরে টানতে টানতে একটা ফাকা রুম এ নিয়ে এসে রুম লক করে দেয়


নীরা : প্লিজ আমায় মারবেন না আমি আর কোনো দিন ও


পুরা কথা বলতেই পারে না তার আগেই নিলয় নীরার দুহাত শক্ত করে ধরে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে নীরার ঠোঁটে নিজের ঠোট ডুবিয়ে দেয় নিলয় যেভাবে নীরাকে ধরে রেখেছে নীরা নড়তেও পারছে না নীরা অজানা এক অনুভুতিতে হারিয়ে গেছে এর মধ্যে নিলয় নীরাকে ছেরে দেয়


এদিকে নিলয় নিরাকে ছারার পর নীরা চোখ বন্ধ করে চুপটি মেরে দাঁড়িয়ে কান্না করতে থাকে


নিলয় কান্না বন্ধ করো নীর


নীরা :


নীলয় : কি থামবা নাকি আবার কিস করবো????


নীরা : আপনি আমার সাথে কেনো এমন করছেন??? কি করছি আমি


নিলয় : তুমি ওই ছেলের সাথে কথা বলছিলে কেনো


নীরা : আমি তো কথা বলিনি উনিই তো


নিলয় :: উনি তো কি???? যে তোমার সাথে কথা বলতে আসবে তুমি তার সাথেই কথা বলবা কি ভেবেছিলা আমি জানতে পারবো না


নীরা : আমি তো জাস্ট


নিলয় : নীর পাখি আমি তোমাকে বলেছিনা এমন কোনো কাজ করোনা যাতে আমার রাগ উঠে য

হৃদয়ের মাঝে দূরত্ব বৃ্দ্ধি

 হৃদয়ের মাঝে দূরত্ব বৃ্দ্ধি







একজন টিচার তার ছাত্র- ছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষা সফরে গিয়েছিল। তারা যখন ঘুরতে বের হল তখন এমন একটা পরিবার দেখতে পেল যার সদস্যরা একে অপরের সাথে চিৎকার করে ঝগড়া করছিল। শিক্ষক তার ছাত্র- ছাত্রীদের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন...

‘‘তোমাদের কি ধারনা? মানুষ যখন রেগে যায় তখন একে অপরের সাথে চিৎকার করে কথা বলে কেন?’’

শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষন চুপ করে ভাবলো, তারপর একজন উত্তর দিল,'কারন আমরা তখন মনের শান্তি হারিয়ে ফেলি এবং চিৎকার করি।’’

শিক্ষক প্রশ্ন করলো,‘‘কিন্তু আমরা চিৎকারই বা করি কেন? যাকে আমরা রাগ দেখাই সে তো আমাদের সামনেই আছে, তাকে যা বলার তাতো আমরা শান্ত ভাবেও বলতে পারি।’’

ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই উত্তর দিল, কিন্তু তারা কেউই তাদের নিজেদের উত্তরেই সন্তুষ্ট হতে পারলো না। শেষে শিক্ষক তাদের ব্যাখ্যা করলো, ‘‘যখন দুইজন মানুষ একজন আরেক জনের সাথে রাগারাগি করে তখন তাদের হৃদয়ের মধ্যকার দূরত্ব বেড়ে যায়। এই দূরত্বের জন্য তারা চিৎকার করে কথা বলে, যাতে একে অপরের কথা বুঝতে পারে।

তারা যত বেশি রেগে যায় এই দূরত্ব তত বেশি বেড়ে যায়, আর তখন তারাও তত বেশি চেঁচামেচি করে ঝগড়া করে।’’ শিক্ষকের সাথে তার ছাত্র ছাত্রীদের সম্পর্ক ছিল খুব খোলামেলা, তাই সে ভালভাবে তাদের ব্যাপারটা বোঝাতে পারছিল।

‘‘কি ঘটে যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে ভালবাসে? তারা কিন্তু নিজেদের সাথে চিৎকার করে কথা বলে না বরং মোলায়েম স্বরে কথা বলে। কারন তাদের ভালবাসা দুইজনের হৃদয়কে খুব কাছে নিয়ে আসে।''

শিক্ষক আবার বললো,‘‘ যখন দুইজন মানষের ভালবাসা আরও গভীর হয় তখন কি হয়? তখন তারা একে অপরের
সাথে চাপাস্বরে কথা বলেও সব কিছু বুঝতে পারে। এবং এক পর্যায়ে নিজেদের দিকে তাকিয়েই তারা সবকিছু বুঝতে পারে।’’

সে তার শিক্ষার্থীদের দিকে তাকালো এবং বললো, ‘‘তোমরা যখন একে অপরের সাথে তর্ক করো,ঝগড়া করো তখন এমন কোন শব্দ ব্যবহার কোরো না যা তোমাদের হৃদয়ের মাঝে দূরত্ব বৃ্দ্ধি করে। যদি এভাবে চলতেই থাকে তবে হয়তো এমন একদিন আসবে যখন এ দূরত্ব এত বেশি হয়ে যাবে যে আর কোন শব্দই সেখানে পৌছুবে না, সেখান থেকে ফিরে আসারও হয়তো আর কোন পথ থাকবে না।

স্বামী ও স্ত্রী

 


পাগল মানুষ তো কত কিছুই করে!


স্ত্রী : আমি যদি হঠাৎ মারা যাই। তাহলে তুমি কী করবে?


স্বামী : তুমি মরে গেলে আমি পাগলই হয়ে যাব।


স্ত্রী : আরেকটা বিয়ে করবেনা তো?


স্বামী : পাগল হয়ে গেলে তো মানুষ কত কিছুই করে!!!

সেলসম্যান ও ম্যানেজার গল্প

শিক্ষনীয় বিষয় 



 সেলসম্যান, অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন। তাঁরা ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল। 

দৈত্য বলল, ‘আমি তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।’ 


‘আমি আগে! আমি আগে!’ বললেন অফিস ক্লার্ক, ‘আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে না।’ ‘ফুঃ...!!’ তিনি চলে গেলেন। 


‘এরপর আমি! এরপর আমি!’ বললেন সেলসম্যান, ‘আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই যেখানে শুধু আরাম করব।’ ‘ফুঃ...!!’ তিনিও চলে গেলেন। 


‘এখন তোমার পালা’, দৈত্য ম্যানেজারকে বলল। ম্যানেজার বললেন, ‘আমি ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।’


শিক্ষণীয় বিষয়
সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের কথার কোন মূল্য থাকবে না।

শুনা কথায় কান দিতে নেই

 শুনা কথায় কান দিতে নেই


ছেলেঃ বাবা তুমি নাকি ঘুষ খাও? 

বাবাঃ তুমি দেখেছ? 

ছেলেঃ না শুনেছি। 

বাবাঃ শুনা কথায় কান দিতে নেই। কিছু দিন পর-


বাবাঃ তুমি নাকি পরীক্ষায় ফেল করেছ? 

ছেলেঃ তুমি কি দেখেছ বাবা?

 বাবাঃ না শুনেছি। 

ছেলেঃ শুনা কথায় কান দিতে নেই বাবা.....

মহানবী (সাঃ) এর ঈদের দিনের ঘটনা

 মহানবী (সাঃ) এর ঈদের দিনের ঘটনা







মহানবী (সা.) বেঁচে থাকাকালীন ঈদের দিনের একটি শিক্ষনীয় ঘটনা


আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল (সাঃ) ছিলেন একেবারেই এতিম। এতিম ছিলেন বলেই তিনি বুঝতেন এতিম ও অসহায়দের মনের কষ্ট। জীবনের কষ্ট। কাজের কষ্ট। তাদের সকল কষ্টই তিনি অনুভব করতেন একান্ত হৃদয় দিয়ে। ফলে তাদের সেসব কষ্টের তুষার দূর করার জন্য রাসূল (সাঃ) সকল সময় থাকতেন ব্যাকুল। তাদের প্রতি ছিল তাঁর বিশাল হৃদয়। আকাশের মতো, তার চেয়েও বিশাল। বিশাল ছিল তাঁর মন ও ভালোবাসার দরিয়া। সেখান থেকে উঠে আসতো দরদের তুফান। মমতার ঢেউ। সেই ঢেউ আছড়ে পড়তো নবীর (সাঃ) চারপাশে। সকলের হৃদয়ের দু কূল ছাপিয়ে যেত রাসূলের (সাঃ) ভালোবাসার কোমল তুষারে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সেতো এক মহৎ গুণ! মানুষকে ভালোবাসতেন রাসূল (সাঃ) মন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, জীবন দিয়ে।

কিন্তু এতিম, গরিব, দুস্থ এবং অসহায়দের প্রতি রাসূলের (সাঃ) ভালোবাসার মাত্রাটা ছিল অনেক- অনেক গুণে বেশি। যার কোনো তুলনাই হয় না। সেই ভালোবাসার নজির তো রয়ে গেছে রাসূলের (সাঃ) জীবনেই। তাঁর জীবন-ইতিহাস যেমন শিক্ষণীয় তেমনই পালনীয়।


ঈদ মানেই তো খুশি আর খুশি। আনন্দের ঢল। সবার জন্যই চাই ঈদের আনন্দ। সমান খুশি। কিন্তু চাইলেই কি সব হয়? কিছু ব্যতিক্রম তো থেকেই যায়। যেমন রাসূলের (সাঃ) সময়ে এক ঈদে, নামাজ শেষে ঘরে ফিরছেন দয়ার নবীজী (সাঃ)। তিনি দেখলেন মাঠের এক কোণে বসে কাঁদছে একটি তুলতুলে কোমল শিশু। এই খুশির দিনেও কান্না! অবাক হলেন রাসূল (সাঃ)। তাঁর হৃদয়ের বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়লো। রাসূল (সাঃ) ছেলেটির কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন।


শিশুটি বললো, আমার আব্বা-আম্মা নেই। কেউ আমাকে আদর করে না। কেউ আমাকে ভালোবাসে না। আমি কোথায় যাবো? এতিম নবী রাহমাতুল্লিল আলামিন। ছেলেটির কথা শুনে গুমরে কেঁদে উঠলো নবীজীর (সাঃ) কোমল হৃদয়। জেগে উঠলো তাঁর মর্মবেদনা। তিনি পরম আদরে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে গেলেন। হযরত আয়েশাকে (রাঃ) ডেকে বললেন, হে আয়েশা! ঈদের দিনে তোমার জন্য একটি উপহার নিয়ে এসেছি। এই নাও তোমার উপহার। ছেলেটিকে পেয়ে দারুণ খুশি হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ)। দেরি না করে মুহূর্তেই তাকে গোসল করিয়ে জামা পরালেন। তারপর তাকে পেট ভরে খেতে দিলেন।


রাসূল (সাঃ) ছেলেটিকে বললেন, আজ থেকে আমরাই তোমার পিতা-মাতা। আমরাই তোমার অভিভাবক। কি, খুশি তো! রাসূলের (সাঃ) কথা শুনে ছেলেটির চোখেমুখে বয়ে গেল আনন্দের বন্যা। এই ছিল এতিমের প্রতি রাসূলের (সাঃ) ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত! রাসূল (সা) শুধু এতিমদের প্রতিই যে এমন সদয় ছিলেন, সহমর্মী ছিলেন তাই নয় তিনি তাঁর অধীনস্থদের প্রতিও ছিলেন সদা সজাগ ও দরদি। মায়া-মমতার চাদরে তাদেরকে আঁকড়ে রাখতেন। তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়, মনে যেন কোনোপ্রকার দুঃখ না থাকে দয়ার নবী (সাঃ) সেদিকে খেয়াল রাখতেন সর্বক্ষণ।


রাসূলের (সাঃ) দুজন খাদেম বা চাকর ছিলেন। একজন হযরত যাইদ ও আর একজন হযরত আনাস (রাঃ)। তাদের সাথে রাসূল (সাঃ) কখনোই মনিবসুলভ আচরণ করতেন না। কড়া ভাষায় কথা বলতেন না। খারাপ ব্যবহার করতেন না। মেজাজ দেখাতেন না। আদেশ কিংবা নির্দেশে কঠোরতাও দেখাতেন না। বরং আপন পরিবারের সদস্যদের মতই তাদের সাথে ব্যবহার করতেন। একই খাবার খেতেন। একই ধরনের জীবন-যাপন করতেন। কী আশ্চর্যের ব্যাপার! আজকের দিনে যা কল্পনাও করা যায় না। হযরত যাইদের (রাঃ) কথাই বলি না কেন! ছোট্টবেলায় তিনি মা-বাপ থেকে হারিয়ে যান।


 আল্লাহর রহমতে তার আশ্রয় হয় রাসূলের(সাঃ) ঘরে। যখন তার পিতা-মাতার সন্ধান পাওয়া গেল, তখন তারা ছুটে এলো রাসূলের (সাঃ) কাছে। তারা তাকে নিয়ে যেতে চায়।রাসূল (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার পিতা-মাতার সাথে যাবে? যাইদ (রাঃ) সাথে সাথেই বললেন, রাসূলের (সাঃ) কাছ থেকে যে ব্যবহার আমি পেয়েছি, তাঁর কোনো তুলনা হয় না। তামাম পৃথিবী যদি আমাকে দেয়া হয় তবুও তাঁকে ছেড়ে আমি যেতে পারবো না। না, কখনোই যাবো না। হযরত আনাস (রাঃ)।তিনি আট বছর বয়সে রাসূলের (সাঃ) খেদমতে এসেছিলেন। দীর্ঘ দশ বছর পর্যন্ত রাসূলের (সাঃ) খেদমত করেছিলেন।সেই হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, দীর্ঘ দশ বছর রাসূলের (সাঃ) খেদমত করেছি। কিন্তু এই দশ বছরের মধ্যে কোন একটি দিনও রাসূল (সাঃ) আমাকে একটি কথাও ধমক দিয়ে বলেননি। এমনই ছিল রাসূলের (সাঃ) আচার- ব্যবহার। এমনই ছিল তাদের প্রতি তাঁর হৃদয়ের ভালোবাসা। এমনই ছিল তাঁর উদারতা। ছিল দয়া ও মমতার অসীম সাগর। সাগরের চেয়েও অধিক। রাসূলের (সাঃ) মতো এমনই হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে আমাদের। যে হৃদয় হবে ভালোবাসায় পূর্ণ। মমতায় টইটম্বুর। যে হৃদয় হবে আকাশের চেয়েও প্রশস্ত। সাগরের চেয়েও বিশাল।


এমনই হৃদয় তৈরির জন্য প্রয়োজন রাসূলের (সাঃ) শিক্ষা গ্রহণ ও সৎ সাহসের। এ জন্যই আমাদের রাসূলের (সাঃ) আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। তাঁর পথেই চলতে হবে। তাঁর শিক্ষাই গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই কেবল সুন্দর, সার্থক ও সফল হবে আমাদের জীবন। আসুন আমরা রাসূলকে (সাঃ) ভালোবাসি। তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করি। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করি। তাঁরই দেখানো আলো ঝলমলে পথে সর্বদা চলি।

গল্প

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

জীবন দিয়ে ভালবাসার প্রমাণ আজ ১৩ই ফেব্রুয়ারি।আগামীকাল "বিশ্ব ভালোবাসা দিবস"...সব প্রেমিক-প্রেমিকাদের কত প্ল্যান এই দিনটা নিয়ে। সাদি...